জিডিটি নিলাম

বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে ০.৬%

বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। সর্বশেষ নিলামে বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম নির্ধারণকারী সূচক দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অবসান হলো। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সামান্য দরপতনের পরও বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল চাহিদার কারণে পণ্যগুলোর সামগ্রিক দাম এখনো বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। খবর এগ্রিল্যান্ড, ইডেইরি নিউজ ও ফারমারস উইকলি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দুগ্ধ বাজার গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) ৪০৫তম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। আইরিশ ফারমারস জার্নালের তথ্যমতে, এবারের নিলামে পণ্যগুলোর গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি টন ৪ হাজার ২১ ডলার। ইউরোপীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রতি টনে ৩ হাজার ৪৫৩ ইউরো। এ ইভেন্টে মোট ১৪ হাজার ৩৬৪ টন দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয়েছে।

মূলত গুঁড়া দুধ ও মোজারেলা চিজের দাম কমায় সামগ্রিক মূল্যসূচকে এ পতন দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, জিডিটি প্লাটফর্মে কেনাবেচা হওয়া মোট পণ্যের তিন-চতুর্থাংশের বেশি জুড়ে থাকে গুঁড়া দুধ। এর মধ্যে হোল মিল্ক পাউডার বা ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের (ডব্লিউএমপি) দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৮২ ইউরো।

একইভাবে স্কিমড মিল্ক পাউডার বা ননিমুক্ত গুঁড়া দুধের (এসএমপি) দাম ৩ শতাংশ কমে প্রতি টন ২ হাজার ৯৬৯ ইউরোয় নেমে এসেছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম এসএমপির দাম দেড় শতাংশের বেশি কমল। অথচ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ নিলামের আগ পর্যন্ত পণ্যটির দাম ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া মোজারেলা চিজের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৩৮৫ ইউরো হয়েছে।

অন্যদিকে ডেইরি ফ্যাট বা দুগ্ধজাত চর্বি জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সামগ্রিক সূচকে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট বা পানিশূন্য দুগ্ধজাত চর্বির দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৫ হাজার ৭২৬ ইউরোয় দাঁড়িয়েছে। মাখনের (বাটার) দামও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৯২৪ ইউরোয়।

এছাড়া ল্যাকটোজের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৮১ ইউরো এবং বাটার মিল্ক পাউডারের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৭২ ইউরোয় পৌঁছেছে। চেডার চিজের দামও ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৩ হাজার ৯৬৮ ইউরোয় দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপের স্পট মার্কেটেও এ দরপতনের প্রভাব পড়েছে। সেখানে বেশির ভাগ দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমতে দেখা গেছে। ইউরোপীয় বাজারে ডব্লিউএমপির দাম প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৫০ ইউরো কমেছে। এছাড়া মাখন, এসএমপি ও চেডার চিজের দাম প্রতি টনে ২৫ ইউরো করে কমেছে।

বৈশ্বিক দুগ্ধ শিল্পের জন্য আরেকটি বড় খবর হলো ইউরোপীয় কমিশন দুটি বড় দুগ্ধ সমবায় প্রতিষ্ঠান আরলা ও ডিএমকের একীভূতকরণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এ নতুন ও বিশাল যৌথ প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি লিটার দুধ প্রক্রিয়াজাত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বার্ষিক ব্যবসায়িক লেনদেন প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি ইউরো।

দুগ্ধ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জিডিটি প্লাটফর্মে দশমিক ৬ শতাংশ দরপতন সম্ভবত একটি সাময়িক প্রযুক্তিগত সমন্বয় মাত্র, কোনো স্থায়ী বাজার সংশোধন নয়। রফতানিকারক দেশগুলো এখনো বর্তমান মূল্যকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে। তবে আগামী মাসগুলোয় বৈশ্বিক উৎপাদন খরচ ও আন্তর্জাতিক চাহিদার পরিবর্তন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

আরও